ঢাকা১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থ বানিজ্য
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. এভিয়েশন
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলা
  9. জব মার্কেট
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশবাংলা
  13. বিনোদন
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল
বিজ্ঞাপন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নাটকীয় ম্যাচ টাই করে বাংলার মেয়েদের ইতিহাস

জনবার্তা প্রতিবেদন
জুলাই ২২, ২০২৩ ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিরিজ জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কিন্তু তাতে কি! ঘরের মাঠে এক অন্যরকম ইতিহাস গড়ল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ২২৬ রানের লক্ষ্যে নামা ভারতকে ২২৫ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে সিরিজ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় ফলাফল টাই হলেও খেলা সুপার ওভারে গড়ায়নি। তাই ১-১ ব্যবধানে দুই দল এখন ট্রফি ভাগাভাগি করবে।

২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই শেফালি ভার্মার উইকেট হারায় ভারত। মারুফা আক্তারের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে কট এন্ড বোল্ড হয়ে ফিরে যান শেফালি। পাঁচ ওভারের মধ্যে স্বস্তিকা ভাটিয়ার উইকেটও হারায় ভারত।

সাত বলে পাঁচ রান করে সুলতানা খাতুনের বলে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হন তিনি। তারপরই ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। ১০৭ রানের জুটি গড়েন স্মৃতি মান্ধানা এবং হারলিন দেওল। ৮৫ বলে ৫৯ রান তোলা স্মৃতিকে ফাহিমা খাতুন ফেরালে আবারও চাপে পড়ে ভারত।

তারপর দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরে গেছেন হারমানপ্রিত কৌর। ২১ বলে ১৪ রান করে নাহিদা আক্তারের বলে ফিরে যান হারমানপ্রীত। অধিনায়ক ফিরে যাওয়ার পর জেমিমাহ রদ্রিগেজ নীয়ে দলকে জয়ের পথে নীয়ে যেতে থাকেন হারলিন।

তবে দলীয় রান ২০০ হওয়ার আগে হারলিন ফেরেন রান আউটে ৭৭ রান করে। এর এক রান পর দীপ্তি শর্মাকে সরাসরি থ্রোতে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান সোবহানা। ৬ ব্যাটারকে হারালেও জেমিমাহ হাল ধরে এগোতে থাকেন। কিন্তু জয় থেকে ১০ রানেরও কম দূরে থাকাকালীন নাহিদার স্পিনে এলোমেলো হয়ে যায় ভারতের লোয়ার অর্ডার।

নাহিদার জোড়া আঘাতে ২১৭ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। একপ্রান্তে জেমিমাহ দর্শক হয়ে দাঁড়িয়েই ছিলেন। শেষ দুই ওভারে ৯ রান প্রয়োজন ছিল ভারতের। যদিও ৪৯তম ওভারের পঞ্চম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনেন মেঘনা সিং।

শেষ ওভারে ৩ রান প্রয়োজন হলে প্রথম বলে সিঙ্গেল জেমিমাহকে স্ট্রাইক দেন মেঘনা। পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ভারতকে আরও কাছে নিয়ে যান জেমিমাহ। কিন্তু তৃতীয় বলে খোঁচা মারতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন মেঘনা। ২২৫ রানে অল আউট হওয়ায় ম্যাচটি টাই হলেও সিরিজ সমতায় শেষ করে বাংলাদেশ।

এদিকে সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই রয়েসয়ে খেলতে থাকেন দলটির দুই ওপেনার শামিমা সুলতানা এবং ফারজানা। দুজন মিলে দেখেশুনে দলের রান বাড়াতে থাকেন। দেখেশুনে খেলতে খেলতে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন শামিমা।

যদিও হাফ সেঞ্চুরি করে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ৭৮ বলে ৫২ রানের ইনিংসটির সমাপ্তি ঘটান স্নেহ রানা। রানার বলে মিড অফে হারমানপ্রিত করের কাছে ক্যাচ তুলে শামিমা বিদায় নিলে ৯৩ রানের উদ্বোধনী জুটিটি ভাঙে। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে শুরুর জুটিতে এর চাইতে বেশি রান আছে আর কেবল একটি জুটির। ২০১১ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শারমিন আক্তার ও শুকতারা রহমান যোগ করেন ১১৩ রান।

এরপর নিগার সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে দলের রান বাড়াতে থাকেন ফারজানা, তিনিও তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। দলীয় ১৬৪ রানের মধ্যে বিদায় রানার দ্বিতীয় শিকার হয়ে বিদায় নেন নিগার। বাংলাদেশের অধিনায়কের ব্যাটে আসে ৩৬ বলে ২৪ রানের ইনিংস। রানার বলে স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন নিগার।

৭১ রানের এই জুটি ভাঙার পর চটজলদি বিদায় নেন রিতু মনিও (২)। তারপর সোবহানা মোস্তারির সঙ্গে বাকি সময়টা পার করেন ফারজানা। এই দুজনের ব্যাটে ৪৭তম ওভারে দুইশ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। পরের ওভারের শেষ বলে শেফালি ভার্মার বলে চার মেরে ১৫৬ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান ফারজানা।

ইনিংসের শেষ বলে সেই শেফালির থ্রো’তেই রানআউট হওয়ার আগে ১৬০ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে এটিই অবধারিতভাবে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। আগেরটি যৌথভাবে সালমা খাতুন ও রুমানা আহমেদের দখলে ছিল। ভারতের বিপক্ষেই ২০১৩ সালে আহমেদাবাদে ৭৫ রান করেছিলেন সালমা।

আর পরের ম্যাচেই সেটি স্পর্শ করেন রুমানা। লম্বা সময় পর তাদের ছাড়িয়ে গেলেন ফারজানা। শেষপর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন সোবহানা। তার ২২ বলে খেলা ২৩ রানের ইনিংসে লড়াই করার মতো পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ৪৫ রান খরচায় দুই উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার রানা।