ঢাকা২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ১১ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থ বানিজ্য
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. এভিয়েশন
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলা
  9. জব মার্কেট
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশবাংলা
  13. বিনোদন
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল
বিজ্ঞাপন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফখরুল-আব্বাস জেলে বিএনপি সমাবেশে

জনবার্তা প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ১০, ২০২২ ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চারপাশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সবার কৌতূহল- কী হবে এদিন! কী ঘটবে ঢাকায়? নানা নাটকীয়তা, সংঘাত-সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা, শীর্ষ নেতাসহ গণগ্রেপ্তার ও আতঙ্কে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। এমন পরিস্থিতিতে আজ শনিবার বহুল আলোচিত বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে সেই সমাবেশ বিএনপির নয়াপল্টনে নয়; আবার পুলিশের প্রস্তাবিত সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানেও নয়। রক্তারক্তি ঘটনার পর ছাড় দিয়েছে উভয় পক্ষই। পাল্টাপাল্টি ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুর প্রস্তাব, দফায় দফায় সমঝোতা বৈঠক শেষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে দলটির নতুন প্রস্তাবিত ভেন্যু যাত্রাবাড়ী থানাধীন গোলাপবাগ মাঠে ২৬ শর্তে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে মাঠের কোনো ক্ষতি হলে তা রক্ষণাবেক্ষণ করে দেওয়ার শর্তে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকেও অনুমতি নিয়েছে বিএনপি। অবশ্য অনুমতি দেওয়ার আগের রাতেই গ্রেপ্তার হতে হয়েছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে প্রেরণ করেছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পাড়া-মহল্লায় সতর্ক পাহারা ও হুমকি-ধমকি, পুলিশি গ্রেপ্তারের ভয়কে উপেক্ষা করেও সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সফল সমাবেশের দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দলটি। একই সঙ্গে বিভাগীয় গণসমাবেশের ইতি টেনে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করবে তারা।

সমাবেশের অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই গতকাল বিকেলে মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। একই সঙ্গে সমাবেশস্থলে হাজির হতে শুরু করেন বিএনপি নেতাকর্মী। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত মাঠে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমবেত হন। এমনকি মাঠে রাত যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিছানাপত্রও নিয়ে এসেছেন অনেকে। আজ দুপুর ১২টায় হবে এ গণসমাবেশ। মির্জা ফখরুল কারাগারে থাকায় আজকের গণসমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করবেন ……………..

ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ হলেও গত কয়েক দিনে সারাদেশ থেকে দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকায় চলে এসেছেন। চাপা উদ্বেগের মধ্যে ‘অঘোষিত শঙ্কায়’ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকার ভেতরে এবং প্রবেশপথে তল্লাশি চৌকি ও নজরদারি জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ঢাকার সড়কে গতকাল থেকেই কমেছে যাত্রী ও গণপরিবহন। মানুষের চাপ না থাকায় দূরপাল্লার বাসও তেমন ছেড়ে যায়নি। অবশ্য পরিবহন মালিক সমিতি ধর্মঘট না ডাকলেও বিএনপির কাছে ভাড়া দেয়নি বাস। বিকল্প উপায়ে বাস-ট্রেন, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে ঢাকায় আসেন নেতাকর্মী।

গত ১২ অক্টোবর থেকে গণপরিবহনে ধর্মঘট, গ্রেপ্তার, হুমকি-ধমকির মধ্যেই ইতোমধ্যে সারাদেশে ৯টি বিভাগীয় গণসমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন করেছে বিএনপি। বিশেষ করে ১০ ডিসেম্বর ঢাকা অচল, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথায় দেশ চলা এবং সমাবেশে যোগদানের বক্তব্যে নড়েচড়ে বসে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দল ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মাসব্যাপী বাগ্‌যুদ্ধ, ‘খেলা হবে’ বলে হুমকি-পাল্টা হুমকিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। এতে জনমনে দেখা দেয় ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। শঙ্কা কিছুটা সত্যিও হয়েছে। সমাবেশের দু’দিন আগেই নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে একজন নিহত ও শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিও দিয়েছেন বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা। দিনটিতে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করতে নিজ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নির্দেশও দিয়েছেন তাঁরা। এ বিরূপ পরিস্থিতিতে ঢাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ৯টি বিভাগে জনসভা করেছি। সরকারের সব বাধা উপেক্ষা করে এসব জনসভায় জনতার ঢল নেমেছে। অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা, নির্যাতন করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হয়েছে। কিন্তু আমরা ধৈর্য ধরে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে চেয়েছি। তবে মনে হয়, সরকার অন্য কিছু চায়।’

নাটকের অবসান: বিএনপির পূর্বঘোষিত গণসমাবেশের মাত্র ২০ ঘণ্টা আগে টানা কয়েক দিনের নাটকের চূড়ান্ত অবসান হলো। বিএনপির প্রতিনিধি দলের আবেদনের পর গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে ভেন্যু নির্ধারণের ওই ঘোষণা আসে। সোহরাওয়ার্দীতে দেওয়া ২৬ শর্তে গোলাপবাগে আজ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আজ শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সমাবেশের জন্য গোলাপবাগ মাঠ ব্যবহার করতে পারবে তারা। তবে কয়েক দিন পুলিশ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে জল ঘোলার পাশাপাশি নয়াপল্টনে রক্তারক্তি হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে দেখা করে। ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষও বলছিল, ভেন্যু নিয়ে সমঝোতা হয়ে গেছে। বিএনপির দাবি ছিল, নয়াপল্টনের বদলে কমলাপুর স্টেডিয়াম। আর পুলিশ সমাবেশস্থল হিসেবে প্রস্তাব দেয় মিরপুরের বাঙলা কলেজ মাঠ। পুলিশের সঙ্গে বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর বা কমলাপুরের মাঠের যে কোনো একটি যখন সমাবেশস্থল হিসেবে নির্ধারণ করার কথা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছিলেন, তখনও কারও হয়তো বিশ্বাস হওয়ার কথা নয়- সমাবেশস্থল নিয়ে নাটকের শেষ পর্ব অপেক্ষা করছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছিল- কমলাপুর স্টেডিয়াম নয়, বিএনপি চাইলে বাঙলা কলেজ মাঠে সমাবেশ করতে পারবে। নানা ভেন্যুর নাম বিভিন্ন দফায় আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত গোলাপবাগ মাঠ চূড়ান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সমকালকে জানান, ভেন্যু নিয়ে এক ধরনের সমঝোতায় আসার পর বিএনপি নেতারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে কয়েক মিনিট আলাদা কক্ষে গিয়ে কথা বলার সময় চান। এ সময় বিএনপি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দলটির একজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশের সঙ্গে বৈঠকের সর্বশেষ অবস্থা তাঁকে অবহিত করেন। শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথার পর বিএনপি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সমাবেশস্থল নিয়ে সমঝোতার আভাস দিয়ে বৈঠক শেষ করেন। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, মির্জা আব্বাস ছাড়াও দলটির একটি অংশ চাননি সমাবেশস্থল ঢাকা মহানগর উত্তরের কোনো স্থান নির্ধারণ হোক। এতে তাঁদের প্রভাব বলয় থেকে দলের দৃষ্টি সরে যেতে পারে। তবে বিএনপির অনেক নেতা চেয়েছিলেন, মিরপুর বা কমলাপুরের মধ্যে যে কোনো একটি হলে তাঁদের কোনো সমস্যা নেই।

দুই শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার: সারাদিন আলোচনা চললেও বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৩টার দিকে অনেকটা আকস্মিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের টিম ফখরুল ও আব্বাসকে তাঁদের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে সরাসরি মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যায়। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে কমলাপুর স্টেডিয়াম ও মিরপুর বাঙলা কলেজ মাঠ পরিদর্শনে যায় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। পরে সাংবাদিকদের মির্জা আব্বাস বলেন, ‘দুইটা মাঠ দেখেছি। কোথাও নিরাপদ নয় বিএনপি কর্মীরা। সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।’ ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের কাছে সমাবেশস্থল নির্ধারণে যে বক্তব্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বরকত উল্লাহ বুলু দিয়েছিলেন, তার পুরো উল্টো বক্তব্য দেন মির্জা আব্বাস। গতকাল পর্যন্ত পুলিশের ভাষ্য ছিল, নয়াপল্টনে সহিংসতার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফখরুল ও আব্বাসকে আটক করা হয়েছে। তবে দুপুর ২টার দিকে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, পল্টন থানায় দায়ের বিস্ম্ফোরক প্রতিরোধ আইনের মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পর বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল গতকাল পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গোলাপবাগ মাঠ সমাবেশস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি চায়।

এ ব্যাপারে ডিবিপ্রধান ডিআইজি হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠককালে তাঁরা দুটি ভেন্যু ঠিক করেছিলেন। একটি হচ্ছে কমলাপুর স্টেডিয়াম, আরেকটি মিরপুর বাঙলা কলেজ মাঠ। তাঁরা আজ (শুক্রবার) আবার আবেদন করে গোলাপবাগ মাঠ চাইলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে গোলাপবাগ মাঠেই তাঁদের অনুমতি দিয়েছি। ডিবিপ্রধান বলেন, সমাবেশের শর্ত আগেরগুলো থাকবে। নিরাপত্তায় আমাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সেখানে রয়েছে। পোশাকে এবং সাদা পোশাকে পুলিশের সমন্বয়ে যেভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাটা গোলাপবাগ মাঠেও থাকবে। আমরা তদারকি করছি, যেন এ সমাবেশ ঘিরে কোনো ধরনের অরাজকতা না হয়।

জামিন নাকচ: পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনা ও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে পল্টন থানায় করা মামলায় মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। পরে তাঁদের হাজতখানা থেকে মাইক্রোবাসে করে কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। এখন তাঁরা সেখানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এর আগে গতকাল বিকেলে তাঁদের সিএমএম আদালতের হাজতখানায় হাজির করে পুলিশ। রিমান্ডে নেওয়ার জন্য কোনো আবেদন না থাকায় বিএনপির এ দুই শীর্ষ নেতাকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়নি। আদালতের হাজতখানায় তাঁদের রাখা হয়।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদারসহ অন্য আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করেন মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবুসহ অন্যরা।

এদিকে, মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা পাবেন তাঁরা। আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, নতুন করে গ্রেপ্তার কোনো আসামি হলে ছুটির দিনেও বিশেষ আদালত বসানো যায়। তবে জামিন নাকচ হয়ে আটক আসামির ক্ষেত্রে ছুটির দিনে বিশেষ আদালত বসানোর নিয়ম নেই। মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসের জামিন আবেদনের জন্য অন্তত রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আদালত এলাকায় মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘সমাবেশকে নস্যাৎ করার জন্যই সরকার তথাকথিত মামলা দিয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ও মির্জা আব্বাসকে কারাগারে আটকে রেখেছে।’

এ ছাড়া গত ২৬ মে পল্টন থানার নাশকতার মামলায় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়নসহ সাতজনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা বল: বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়িসহ গণপরিবহনে তল্লাশি চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে এবার পুলিশের পাশাপাশি রাজধানীর প্রবেশপথ ছাড়াও নগরের বিভিন্ন সড়কে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় র‌্যাব। গতকাল পল্টন, মতিঝিল, শাপলা চত্বর, সচিবালয়, জিরো পয়েন্টসহ কয়েকটি এলাকায় তল্লাশি চৌকি দেখা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতার অংশ হিসেবে ঢাকার বাইরে থেকেও অতিরিক্ত ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ডিএমপির সব ইউনিটের কনস্টেবল থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যন্ত সবার ছুটি সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। সমাবেশস্থল গোলাপবাগ মাঠ ও এর আশপাশে বিপুলসংখ্যক সাদা পোশাক এবং ইউনিফর্মে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা অবস্থান নিচ্ছেন গতকাল বিকেল থেকেই। রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক গোলাপবাগ মাঠ পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে কমিশনার বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এখানে এসেছি।’ বিকেলে মাঠটি পরিদর্শন করে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘মাঠের আশপাশে কিছু বহুতল এবং নির্মাণাধীন ভবন থাকায় মাঠ পরিদর্শন করে নিরাপত্তাসংক্রান্ত কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। ডিএমপি ও র‌্যাব এসব ঝুঁকি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে।

রাতেই কানায় কানায় পূর্ণ সমাবেশের মাঠ: সরেজমিন দেখা গেছে, সমাবেশের অনুমতি পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো মাঠ ও এর আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। পুরো সমাবেশ মাঠ যেন উৎসবে পরিণত হয় এই দিন। দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ উৎসুক জনতাকেও দেখা গেছে। রাতেও বেশিরভাগ নেতাকর্মী শীতের ঠান্ডা উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে মাঠের মধ্যে অবস্থান নেয়। যশোরের বাঘারপাড়া থেকে ক্রাচে ভর করে রাজিবুল ইসলাম এসেছেন মাঠে। তিনি জানান, বিএনপির এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে যে ধরনের জঘন্য নির্যাতন করা হয়েছে, গুলি করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাতে এক সময় মনে হয়েছে- এই সমাবেশ আর হবে না। সংঘাতের দিকে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু অনেক ত্যাগের বিনিময়ে সমাবেশের স্থান ঘোষণার পর তাঁদের কাছে এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। ইতিহাসের অংশ হতে তিনি বিকেলেই মাঠে এসেছেন।

অনেক নেতাকর্মীকে মাঠ থেকে ফেসবুকে লাইভ করতে দেখা যায়। পরে গোলাপবাগ মাঠ এলাকায় আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দ্রুতগতির মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সরকারের একটি সংস্থা।

চ্যালেঞ্জ ঢাকা মহানগর বিএনপির: ঢাকা মহানগর বিএনপির জন্য এ সমাবেশ অগ্নিপরীক্ষা। গত বছরের আগস্টের শুরুতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির কমিটি গঠিত হয়। এর পর থেকে সাংগঠনিক তৎপরতার পাশাপাশি নয়াপল্টনে বিভিন্ন সমাবেশের মাধ্যমে দক্ষতা প্রমাণ করতে পারলেও এবারের সমাবেশকেই তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক জানান, সমাবেশ সফল করতে তাঁরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।

লোকেশন জটিলতা: গোলাপবাগ মাঠে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি মিললেও অনেকের কাছেই এই স্থান অপরিচিত। এ কারণে অনেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে মাঠের অবস্থান খুঁজতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির নেতাকর্মী গোলাপবাগ মাঠের লোকেশন, কীভাবে আসতে হবে, তা তুলে ধরছেন।

মুসল্লির ছদ্মবেশে জামায়াত: নয়াপল্টন এলাকায় গতকাল মুসল্লিদের জুমার নামাজে যাতায়াতের পথে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার নয়াপল্টনে সাংবাদিকদের বলেন, কোনো মুসল্লিকে বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু এখানে ৪০-৫০ জন ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। এই স্লোগান দেয় জামায়াতে ইসলামী। তারা এখানে ঢুকে পুলিশের সঙ্গে ঝগড়া বা ঝামেলায় লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করছিল। আমরা তাদের ডেসপাস করে দিয়েছি।