ঢাকা২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থ বানিজ্য
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. এভিয়েশন
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলা
  9. জব মার্কেট
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশবাংলা
  13. বিনোদন
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল
বিজ্ঞাপন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদেশে বসে দেশের পায়ে কুড়াল মারা

জনবার্তা প্রতিনিধি
জানুয়ারি ২০, ২০২৩ ৮:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে লিখেছেন বাংলা ভাষায় ‘পরশ্রীকাতর’ বলে একট শব্দ আছে, যা অন্য কোনো ভাষায় নেই। পরের শ্রী দেখে অন্যের কাতর হওয়া। এই গুণের একক কৃতিত্বের দাবিদার একমাত্র বাঙালির অন্য কারও নয়। ঠিক একই কথা খাটে ‘নিজের পায়ে কুড়াল মারা’ প্রবাদের ক্ষেত্রে। এই সংস্কৃতিরও দাবিদারদের মধ্যে বাঙালি একদম শীর্ষে।

খুব বেশি দূর যেতে হবে না। ১৯৭১ সালে গোটা বাঙালি জাতি যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মরণপণ যুদ্ধ করছে, ঠিক তখন গুটিকয়েক বাঙালি প্রবীণ রাজনীতিবিদ শাহ আজিজের নেতৃত্বে জাতিসংঘে গেলেন পাকিস্তানের পক্ষে বাংলাদেশে গণহত্যার পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য। আজকের প্রজন্মের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে- এই শাহ আজিজকেই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান ৩০ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। ঘটনা সেখানেই থেমে থাকেনি। বেছে বেছে স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছিলেন। জামায়াতসহ অন্যান্য স্বাধীনতাবিরোধী দলকে স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করার দ্বার খুলে দিয়েছিলেন। নিজ স্বার্থের জন্য তিনি ৩০ লাখ শহীদের রক্তে লিখিত দেশের সংবিধানকেও একাধিকবার পরিবর্তন করেছিলেন। জিয়ার এসব ‘নিজের পায়ে কুড়াল মারা’ কর্মকাণ্ডের ফল দেশ এখনও ভোগ করছে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও দেশের শত্রুরা বসে ছিল না। জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আযম পাকিস্তানেই ছিলেন; গঠন করলেন ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি’। প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি ভুট্টোর আশীর্বাদ নিয়ে যাত্রা করলেন সৌদি আরব। সেখান থেকে যুক্তরাজ্য। দুই দেশের রাজপরিবার, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংগঠনকে বোঝালেন বাংলাদেশে মুসলমানরা বিপন্ন। বিভিন্ন স্থানে মসজিদ ভেঙে নির্মিত হচ্ছে মন্দির। এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেতে আর্থিক ও অন্যান্য সাহায্য দরকার। রীতিমতো রশিদ কেটে চাঁদা তোলা শুরু করে দিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা যেমন করেছিল চরম ডানপন্থি দলগুলো, ঠিক একইভাবে বিরোধিতা করেছিল কট্টর বামপন্থিরা। এদের মধ্যে ছিল কমরেড আবদুল হকের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টিও। তিনি ১৯৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি ভুট্টোকে ‘আমার প্রিয় প্রেসিডেন্ট’ সম্বোধন করে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তার জোরালো অনুরোধ করেন। ভুট্টো তাঁর একান্ত আস্থাভাজন মাওলানা কাউসার নিয়াজি ও আবদুল মালেককে সব ধরনের সহায়তা করার জন্য নির্দেশ দেন। জাতির দুর্ভাগ্য, ১৯৯৫ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কমরেড আবদুল হক স্বাধীন বাংলাদেশে আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির নামে মানুষ খুনাখুনি করে গেছেন।।
এখনকার কথা বলি। প্রমত্ত পদ্মার ওপর একটা সেতু হবে। একটি সেতু কোনো দলের নয়, দেশের। ঠিক হলো বিশ্বব্যাংকসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সেতুতে অর্থায়ন করবে। কিছু প্রাথমিক কাজও শুরু হলো। কিন্তু বিধিবাম। নিজ দেশের পায়ে কুড়াল মারার জন্য কিছু সুধীজন সদা প্রস্তুত আছে। প্রথমে বিশ্বব্যাংক ঘোষণা করে, এই প্রকল্পকে ঘিরে দুর্নীতির একটা বিরাট ষড়যন্ত্রের ছক কাটা হয়ে গেছে। ওয়াশিংটন থেকে টোকিও দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিলেন কিছু সুধীজন। বিরোধী শিবিরে একটা ঈদ ঈদ ভাব। সরকারের নীতিনির্ধারকদের কপালেও কিছুটা ভাঁজ। আবার সরকারের ভেতরেও কিছু ক্ষমতাধর ব্যক্তি পাওয়া গেল, যারা বিশ্বব্যাংকের ছায়াতলে অতীত জীবন কাটিয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের ষড়যন্ত্র তত্ত্বে তারা দ্বিমত করেন কীভাবে? এদিকে বিশ্বব্যাংকের দাবি অনুযায়ী দুর্নীতি দমন কমিশন পুরো বিষয়টা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হলো যেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি প্রতিবেদন দেন। সেই তদন্ত কর্মকর্তা অপারগতা জানালে বিশ্বব্যাংক নিজেই এক তদন্ত শুরু করল।


এসবে বিরক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে ঘোষণা করলেন, তিনি দেশের অর্থেই এই সেতু করবেন। হাজার হলেও শেখ মুজিবের কন্যা। কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান একবার লিখেছিলেন, ‘বাপের শুধু বেটা হয় না, বেটিও হয়’। শেখ হাসিনা তাঁর সেই কথার সত্যতা প্রমাণ করলেন। শেষতক সেই পদ্মা সেতু হলো। তাঁর এই দফার তিন মেয়াদে ১২টি মেগা প্রকল্প চলমান। আওয়ামী বিরোধী শিবির চিৎকার করছে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি হয়নি এমন কথা বলা যাবে না। তবে তারা ভুলে গেছে তাদের দীর্ঘ শাসনামলে মেগা দুর্নীতি হয়েছে, কোনো মিনি প্রকল্পও বাস্তবায়ন হয়নি।
গত দেড় দশকে অনেক দুর্বৃত্ত দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন। তাদের অনেকেই বিদেশে বসে নিত্যদিন দেশকে নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়ান আর বিদেশি সরকারের কাছে বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য দেনদরবার করেন। এমন একজন থাকেন ফ্রান্সে, পেশায় চিকিৎসক। দেশে থাকতে মার্কসবাদের দীক্ষা নিয়েছিলেন। ওষুধ জালিয়াতিতে ধরা পড়ে এখন ফেরারি। সামাজিক মাধ্যমে নিত্যদিন তিনি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক আয়ুর কাউন্টডাউন দেন। একজন এক সময় ঢাকার এক ইংরেজি দৈনিকের সাংবাদিক ছিলেন, এখন সুইডেন প্রবাসী। বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদের জামাতার সঙ্গে মিলিত হয়ে চালু করেছেন ‘মিডিয়া’। সব আয়োজন ও অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু দেশের বিরুদ্ধে তোপ দাগা। এমন আরও উদাহরণ দেওয়া যাবে। তাদের সবার কাজ নিজের দেশের পায়ে কুড়াল মারা।

কিছুদিন আগে এক ঠুনকো অজুহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এলিট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী র‌্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল। অথচ এ ধরনের ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ঘটে থাকে। এটাও স্মর্তব্য, র‌্যাবের গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। প্রশিক্ষণও তাদের।
এরই মধ্যে খবর রটল শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা বাংলাদেশে আসবেন সরকারকে ‘হেদায়েত’ করতে। বিরোধী শিবিরে আবার ঈদের আনন্দ। এবার শেখ হাসিনা যাবেন কোথায়? একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতার পক্ষে অন্যতম বিদেশি কৌঁসুলি টবি ক্যাডমেনের নেতৃত্বে এক লবিস্ট দলকে লন্ডন থেকে পাঠানো হলো যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে; যাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। ইংল্যান্ড, ইউরোপ, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র- সবখানেই বাংলাদেশের পায়ে কুড়াল মারার জন্য অপেক্ষায় থাকে কিছু বাংলাদেশি ও তাদের দোসররা।

এরই মধ্যে আরও একটি খবর রটে গেল, যুক্তরাষ্ট্র থেকে যারা আসছেন তাদের মধ্যে একজন নাকি পাকিস্তানে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। শেখ হাসিনা তো নস্যি। কিন্তু তারা এসে শলাপরামর্শ করে নিজ দেশে ফিরে গেছেন এই বলে যে- বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উন্নত করতে চান। তারা চান বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারা বজায় থাকুক।
ওদিকে বাম ঘরানার একজন নেতা। জামায়াত-বিএনপি ও নানা ওয়ানম্যান পার্টির সঙ্গে তাঁর দলও এখন শেখ হাসিনা হঠাও আন্দোলনের অপরিহার্য নেতা। দলের গোটা কুড়ি সমর্থকের সামনে মাইক বেঁধে ঘোষণা করলেন আসলে মার্কিনিরা এসেছিলেন বাংলাদেশকে ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে ভেড়াতে। তিনি এও ঘোষণা করলেন, দেশের মানুষের গায়ে একবিন্দু রক্ত থাকতে তা তারা হতে দেবেন না। ভালো তো, ভালো না?

বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে, এই দেশের খেয়ে, এই দেশে বড় হয়ে, বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে তথা দেশের পায়ে কুড়াল মারতে অন্য কোনো দেশের মানুষকে দেখা যায় না।