ঢাকা২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ১১ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থ বানিজ্য
  2. আইন আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. ইসলাম
  6. এভিয়েশন
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলা
  9. জব মার্কেট
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দেশবাংলা
  13. বিনোদন
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল
বিজ্ঞাপন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বুশরা গ্রেপ্তার, আটক, জামিন

জনবার্তা প্রতিনিধি
জানুয়ারি ২২, ২০২৩ ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ধরে নিচ্ছি বুশরা মেয়ে নয়, বুশরা একজন ছেলে। তাঁকে যে গ্রেপ্তার ও আটক রাখা হলো, এ ক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্বটা কী ছিল? প্রাথমিকভাবে কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ যদি নিশ্চিত বা গভীরভাবে সন্দেহজনক কিছু লক্ষণীয় না হয়, সে ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার না করেও থাকতে পারে। ফারদিন হত্যা মামলায় বুশরাকে আটকের পুলিশ দ্বৈত আচরণ করেছে। তারা বলেছে, বুশরাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তারা কোনোভাবেই রাজি ছিল না। ফারদিনের বাবার চাপে পড়ে বুশরাকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। তা-ই যদি হবে, তাহলে তারা রিমান্ডের আবেদন করবে কেন? আর কারও চাপে পড়ে কাউকে গ্রেপ্তার করলে পুলিশের নৈতিক অবস্থান কোথায় থাকে? ফারদিনের বাবা তদন্তের কাজে নিয়োজিত নন। তদন্ত করবে পুলিশ। কেউ গ্রেপ্তারের কথা বললেই পুলিশের সেটা করতে হবে কেন? পরে দেখা গেল, পুলিশ-র‌্যাব মিলে তারা নিজেরাই বুশরাকে নির্দোষ বলে উল্লেখ করেছে। আবার শেষের দিকে তারা ফারদিনের মৃত্যুকে আত্মহত্যাও বলেনি। সেখানে বলা হয়, ফারদিন পানিতে পড়ে মারা গেছে। বুশরার সঙ্গে এর কোনো সংশ্নিষ্টতা নেই।

বুশরা একজন নারী, ছাত্রী। তাঁর ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াল। ভবিষ্যতের জন্য একটা দাগ পড়ে গেল। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে হয়তো ফারদিনের বাবা ভুল করেছেন কিন্তু পুলিশ তো এ থেকে মুক্ত হতে পারেনি। আবার আদালতও এ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সুয়োমোটো জামিন দিতে পারতেন; আদালতের সেই এখতিয়ার রয়েছে। কিন্তু তেমনটি করা হয়নি। উপরন্তু বুশরাকে রিমান্ড দেওয়া হলো। পুলিশ বলেছে, ফারদিনের বাবার চাপে বুশরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড চাওয়া হলো কার চাপে? আদালত তা গ্রহণ করলেন, সেটা কার চাপে? এভাবে তো দেশ, আইন বা বিচার কোনোটাই চলতে পারে না। কার্যত এখানে দেখা গেল, অথর্ব এক বিচারব্যবস্থা।

এখানে মূল প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের আইন নিয়ে। এই আইন তৈরি হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলে। এই ঔপনিবেশিক আইন দূর না হলে পুলিশ জনগণের কাছে অপ্রিয় হবে আর মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়বে। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহ হয়। তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৯৬০ সাল লেগে যায়। তবে এ বিদ্রোহের আগুন পুরোপুরি নিভে যায়নি কখনোই। সেটি হয়তো সিপাহি বিদ্রোহ হিসেবে ছিল না; অন্য কোনো বিদ্রোহ আকারে ছিল। ১৮৬০ সালে তৈরি হয় আমাদের প্যানাল আইন। এর পরের বছর হয় পুলিশ আইন। সে বছরই ফোর্ট উইলিয়ামে হাইকোর্ট স্থাপিত হয়। ১৮৯৮ সালে হয় ফৌজদারি কার্যবিধি আইন।

এ সময়কালে আমাদের দেশকে দমন করতে, লুটপাট করতেই এসব আইন কার্যকর ছিল। ব্রিটিশ শোষণ অব্যাহত রাখতে তারা নিজেদের স্বার্থে এখানে আইন করেছে। এখন আমরা সে আইন রাখব কেন? এ আইনে আমূল পরিবর্তন আসা দরকার। যেমন রিমান্ডে নিয়ে কোথায় রাখা হয়? সন্দেহভাজনদের যে হাজতে রাখা হয়, সেখানে কোনো মানুষ থাকতে পারে না। রিমান্ড দিয়ে এমন জায়গায় কেন পাঠাবে? পৃথিবীর কোনো দেশেই এখন এমন ব্যবস্থা নেই। এ ব্যবস্থাটা গড়ে উঠেছিল ঔপনিবেশিক চিন্তা থেকে। আমরা বলছি পুরো ব্যবস্থা ডিজিটাল হয়ে গেছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে একটা রিপোর্ট যাবে না কেন? সবই তো ডিজিটালাইজড হওয়া উচিত।

শুধু ঔপনিবেশিক আইন নয়; এর সঙ্গে রয়েছে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার অভাব। এ দুটো বিষয় আমাদের বিচারব্যবস্থাকে আজকের বাস্তবতায় এনে দাঁড় করিয়েছে। জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে নিয়োগ করা হয় সরাসরি। যে কেউ আইন পাস করার পরই এ সার্ভিসে যুক্ত হতে পারেন। অথচ গোটা দুনিয়ায় আইন পেশায় অভিজ্ঞতা ছাড়া কেউ এ সার্ভিসে যুক্ত হতে পারেন না। ভারতে সম্ভবত পাঁচ বছর আইন পেশায় যুক্ত থাকার পর কেউ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে যেতে পারেন।

আমাদের এখানে যারা জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে যাচ্ছেন সরাসরি, তাঁদের অনেকে এটাও জানেন না কীভাবে ফাইলিং করতে হয়, কোন মামলা কীভাবে রাখতে হয়। পেশাগত অভিজ্ঞতার অভাবেও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী দেশের মানে হলো প্রজাদের দ্বারা শাসিত একটা দেশ। এখানে মালিক কিন্তু জনগণ। জনগণকে শাসন করার জন্য নয়, জনগণ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে সে জন্যই পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনী, আমলা ও অন্যদের নিযুক্ত করা হয়েছে। এখন তারা যদি নিজেদের এই দেশের মালিক মনে করে, তাহলে সেটা ভুল এবং সম্পূর্ণভাবে সংবিধানবিরোধী।